ফেইলিউর সাকসেসের একমাত্র নয়, একটি পিলার মাত্র
ছোটবেলায় সবাই Failure is the pillar of success এর গল্পটা পড়েছি। যুদ্ধে অনেকবার হেরে স্কটদের রাজা রবার্ট ব্রুস একটা গুহায় এক মাকড়সাকে বার বার চেষ্টা করতে দেখে ইন্সপায়ার্ড হয়। তারপর যুদ্ধে জিতে যায়। কিন্তু এখানে একটা বিষয় ছোট বেলায় কারো মাথায় আসে না বা আসার কথা না যে— বার বার চেষ্টা বলতে এখানে শুধু লেগে থাকলেই হয় না। এখানে যে বিষয়টা গল্পে ওভারলুকড তা হলো– ফেইল হবার কারণ বা ফিডব্যাক লুপ। এই কারণের ভা লুপের মধ্যেই লার্নিং আছে। ফেইল করার পর বসে থেকে মোটিভেশন নিলে হয় না কখনো। লার্নিংটা উদ্ধার করতে হয়। অনেকে মোটিভেশন নিয়ে আবারো ঝাপিয়ে পড়ে, তারপরও দেখা যায় একই অবস্থা, কারণ সে লার্নিংটা উদ্ধার বা এক্সপেক্ট করেনি। প্রসেস চেঞ্জ করেনি।
এই যে লার্নিং এর কথাটা বললাম, বিজ্ঞানী এডিসনের কথায় এই লার্নিং মাইন্ডসেট সবচেয়ে সুন্দর ভাবে এসেছে। তিনি বলেন, “I have not failed. I've just found 10,000 ways that won't work.”। এখন এই যে তিনি জানেন যে-সব উপায়গুলো এখন আর কাজ করবে না সেসব উপায়ে তিনি কিন্তু আর সময় নষ্ট করবেন না। তাহলে এখানে এই বিষয়ও চলে আসে যে, কেউ যদি অতি কম সময়ে অনেক বেশি ফেইল করে আর সেই ফেইলিউরের ফিডব্যাক নেয় তাহলে সাকসেসের ততো কাছে এগিয়ে যায়। এই ফিডব্যাক লুপটা খুবই ইম্পর্ট্যান্ট আসলে। Steven Bartlett তার বিখ্যাত The Diary Of A CEO বইতে এটা সুন্দর ভাবে সামারাইজ করেছেন এভাবে–
Failure = Feedback
Feedback = knowledge
Knowledge = power
Failure gives you power
(আরেকটু বাড়িয়ে হয়তো বলতে পারি– Power gives you success)
এখন প্রশ্ন হলো, ফেইল করার রেট বা হার কিভাবে বাড়ানো যায়? এর সহজ উত্তর হলো 'এক্সপেরিমেন্ট' করে। কেমন এক্সপেরিমেন্ট? Steven Bartlett এর বইটা যেহেতু বিজনেস কেন্দ্রিক সেক্ষেত্রে তিনি আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের থেকে নিয়ে বলেন– Changeable, Reversible এমন ডিসিশন যেগুলোর consequences খুবই কম এমন Type-2 ডিসিশন। বড়ো বড়ো ডিসিশনে (Type-1) যে তিনি মানা করেছেন এমন না, তবে Type-2 তে বেশি ফোসফাস দিতে বলেছেন। কিন্তু সবাই যে বিজনেস করবে এমনটাও না। যদিও একই এডভাইস লাইফের নানা ক্ষেত্রে খাটে।
রিয়েল লাইফের উদাহরণ হিসেবে (বিজনেসের বাইরে) আমরা ভর্তি পরীক্ষার সময়ের কথা ভাবতে পারি। ধরা যাক একজন শিক্ষার্থীর একটা চ্যাপ্টার পড়া শেষ। এখন সে নিজে বাসায় বা কোচিং এ পরীক্ষা দিয়ে যাচাই করবে চ্যাপ্টারটা তার আয়ত্তে কতটুকু এসেছে। সে পরীক্ষা দিলো। ২০ নম্বরে ১০ পেলো। সেটা দেখে সে ঠিক করলো পড়াশোনা ঠিকঠাক হয়নি এই চ্যাপ্টারে। তারপর একই ভাবে সে আবারো একই চ্যাপ্টারটা পড়লো। এই যে একইভাবে আবারো পড়তে গেলো এর ফলে কিন্তু আবারো একই রেজাল্ট আসবে ২০ এ ১০ এর আশেপাশেই পাবে৷ কারণ সে ফিডব্যাক লুপটা এভয়েড করেছে। তারা উচিত ছিলো কোথায় ভুল হয়েছে, কিভাবে ভুল হয়েছে, সম্ভব হলে কেনো ভুল হয়েছে তা বের করা। কি কি করলে ভুলগুলো হবে না তা নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করা।
আরেকটা উদাহরণও দেয়া যায়। ধরা যাক আপনি ইউটিউব বা ব্লগ থেকে কোনো একটা বিষয়ে ইম্প্রুভ করতে হলে কি কি করা যায় এমন ১০টা তালিকা পেলেন। ধরা যাক কিভাবে টাকা সেইভ করতে হয় এমন একটা তালিকা দেয়া হলো আপনাকে। এখন আপনার কাজ হবে প্রতিটি উপায় থেকে আপনার সাথে সবচেয়ে ভালো কোনগুলো যায় অনুমানের ভিত্তিতে সেগুলোর উপর এক্সপেরিমেন্ট চালানো। তারপর সেখানের যেগুলি থেকে বেস্ট আউটপুট পেয়েছেন সেগুলোকে হ্যাবিটে রুপান্তর করা। অনেকেটা ট্রায়াল অ্যান্ড এররের মতো।
এখানে একটু বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি একদম র্যান্ডমলি এক্সপেরিমেন্ট চালাবেন না। আগে একটা হাইপোথিসিস দাঁড়া করাবেন। অর্থাৎ কোন কোন এক্সপেরিমেন্ট আপনার সাথে যায় কোনগুলি একদমই আপনার সাথে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই অথবা কোনগুলি স্ট্যাটিস্টিক্যালি বা সায়েন্টিফিক্যালি বেটার এক্সপেরিমেন্টাল অপশন। আপনার লক্ষ্য বা অর্জনের সাথে এই এক্সপেরিমেন্ট কতটুকু হেল্পফুল সেটাও হিসেবে নেয়া গুরুত্বপূর্ণ।
এক্সপেরিমেন্ট থেকে আরেক ধরনের এক্সপেরিমেন্ট এর কথা মনে আসলো যাকে Anne-Laure Le Cunff এর ভাষায় বলতে পারি Tiny Experiments। Tiny Experiment মানে শুধু নতুন কিছু চেষ্টা করা না। এটাও এক ধরনের ফিডব্যাক লুপ। পার্থক্য হলো এখানে ফেইলিউরের ভয়টা কম, কারণ stakes বা ঝুঁকিটা ছোট। আর stakes ছোট হলে বেশি এক্সপেরিমেন্ট করা সহজ হয়, বেশি ফিডব্যাক আসে, বেশি লার্নিং হয়। Tiny Experiment নামের বিখ্যাত বইতে Anne-Laure এই কনসেপ্ট নিয়ে আলোচনা করেন। কিন্তু এটার সাথে ফেইলিউরের সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও আমরা বলতে পারি Tiny Experiment চালিয়ে কয়েকটা জাগায় যদি সাকসেস বা প্লেজার পাওয়া চায় চাইলে লাইফে ওভার অল সাকসেস হবার সার্ফেস এরিয়াটা একটু বড়ো হয়। যত বেশি জায়গায় এক্সপেরিমেন্ট, তত বেশি জায়গায় সাকসেসের সুযোগ। একটা বড়ো গোল মিস হলেও হয়তো অন্য একটায় ঠিকই গোল হতে পারে।
এই Tiny Experiment হলো লাইফ নিয়ে নানান এক্সপেরিমেন্ট। ধরা যাক আপনি A থেকে D গন্তব্যে যাবেন। মাঝে B & C তে একটু থামলেন বিরতি নেয়ার জন্য। সেখানে আপনার বন্ধুত্ব হলো একজন দাবাড়ুর সাথে। আপনি এই খেলা পারেন না বা আগে খেলেননি। আপনি উনার সাথে দাবা খেলে দেখলেন এটা আপনার ভালোই লাগছে। এটার সাথে আপনার গন্তব্য D এর কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু এই যে মাঝে আপনি দাবার প্রতি ঝোক আবিষ্কার করলেন এটা কিন্তু হয়েছে Tiny Experiment এর ফলে। এখন একটা সময় গিয়ে হয়তো এমনটাও হতে পারে আপনি হয়ে গেলেন একজন বিখ্যাত দাবাড়ু বা দাবা শেখায় এমন একজন কোচ। দাবা এখানে একটা উদাহরণ বা experiment মাত্র, এমন নানান এক্সপেরিমেন্ট আপনি চালাবেন। এটায় এমনটা হতে পারে যে আপনার বর্তমান জব ছেড়ে দিয়েছেন এখন কারণ Tiny Experiment থেকে আবিষ্কার করে যেটা করছেন সেটা আপনি এনজয় করছেন বা বেটার আর্নিং হচ্ছে। অথবা এটা মেইন বিজনেস না হলেও একটা চমৎকার সাইড বিজনেস। আপনি যা করছেন তা বাদেও যে আপনি অন্য কিছুতে ভালো হতে পারেন সেটা কিন্তু এইভাবে এক্সপেরিমেন্ট এর মাধ্যমে এক্সপ্লোর না করলে অজানা থেকে যাবে মোস্টলি।
এবার তবে আবারো রবার্ট ব্রুসের গল্পে ফিরে যাই। মাকড়সাটা শুধু বার বার চেষ্টা করেনি। প্রতিবার পড়ে গিয়ে সে অ্যাঙ্গেলটা একটু পাল্টেছে, পদ্ধতিটা একটু বদলেছে। এটাই আসল শিক্ষা যেটা ছোটবেলার গল্পে আমরা মিস করে গিয়েছি। শুধু লেগে থাকা না! লেগে থাকার মধ্যে শেখা, সেই শেখা থেকে বদলানো, আর বদলানোর সাহস থেকে নতুন এক্সপেরিমেন্ট। এটাই সম্ভবত সাকসেসের আসল স্তম্ভ।



