এডভাইস: ব্র্যাডবেরি'র ত্রয়ী
রে ব্র্যাডবেরি (Ray Bradbury) আমেরিকার বিখ্যাত লেখকদের একজন। উনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে Fahrenheit 451 নামক ডিস্টোপিয়ান সায়েন্স ফিকশনটাকে ধরা যেতে পারে। এটার ভিত্তিতে একটা মুভিও আছে একই নামে। উনাকে নিয়ে যখন ঘাটাঘাটি করছিলাম তখন উনার লেকচার থেকে লেখকদের জন্য একটা ইন্টারেস্টিং এডভাইস পেলাম। মজার বিষয় হলো একই এডভাইস নতুন পাঠকদের রিডিং হ্যাবিটস গঠনেও কাজে লাগাবে বলে আমি মনে করি। এটা একটা চ্যালেঞ্জ এর মতো যা ইন্টারনেটে Bradbury Trio নামে বেশি বিখ্যাত।
ব্র্যাডবেরিকে কোট করে যদি বলি, ❝What you’ve got to do from this night forward is stuff your head with more different things from various fields . . . I’ll give you a program to follow every night, very simple program. For the next thousand nights, before you go to bed every night, read one short story. That’ll take you ten minutes, 15 minutes. Okay, then read one poem a night from the vast history of poetry. Stay away from most modern poems. It’s crap. It’s not poetry. Now if you want to kid yourself and write lines that look like poems, go ahead and do it, but you’ll go nowhere. Read the great poets, go back and read Shakespeare, read Alexander Pope, read Robert Frost. But one poem a night, one short story a night, one essay a night, for the next 1,000 nights. From various fields: archaeology, zoology, biology, all the great philosophers of time, comparing them. Read the essays of Aldous Huxley, read Lauren Eisley, great anthropologist. I want you to read essays in every field. On politics, analyzing literature, pick your own. But that means that every night then, before you go to bed, you’re stuffing your head with one poem, one short story, one essay—at the end of a thousand nights, Jesus God, you’ll be full of stuff, won’t you?❞
অর্থাৎ সংক্ষেপে The ‘Bradbury Trio’ হলো: one poem a night, one short story a night, one essay a night, for the next 1,000 nights.
১ হাজার রাত মানে প্রায় ৩ বছর। এখন এই এডভাইসটা মূলত তিনি দিয়েছেন লেখকদের জন্য। মাথায় আইডিয়া ইনপুট দেয়ার জন্য। ভালো আইডিয়া, নানান ডিসিপ্লিন থেকে ভালো ভালো আইডিয়া লেখক মাথায় ইনপুট দেবেন। ভালো ইনপুট মানেই ভালো আউটপুট। এসব আইডিয়া এবং জ্ঞান কাজে লাগিয়ে লেখক ভালো লেখা উৎপাদন করবেন। কিংবা একজন চিন্তক ভালো চিন্তা প্রডিউস করবেন। একদিনেই সব ভালো জিনিস উৎপাদন করবেন এমন না। ক্রমে ক্রমে এগোবেন। ভালোই ইনপুট থেকে ভালো আউটপুট আসবে, ভালো আউটপুট থেকে আসবে ভালো আউটকাম।
তবে পাঠকদের ক্ষেত্রেও এই এডভাইসটা সুন্দর ভাবে কাজে লাগানো যায়। আমরা যদি একজন নতুন পাঠকের কথা চিন্তা করি তাহলে প্রথম যে ইম্পর্ট্যান্ট মাইন্ডসেটা দরকার সেটা হলো–‘একজন পাঠক পড়েন এবং সেই পড়াটা নিয়ে ভাবেন’। এক্ষেত্রে তিনি একটা বই পড়ে শেষ করছেন কি-না সেটা ম্যাটার করে না। প্রথমে তার দরকার একটা কনসিসট্যান্ট রিডিং হ্যাবিট। এই হ্যাবিট গড়াটা সবচেয়ে দরকারি কাজ।
এই হ্যাবিট বা অভ্যাস গড়ার জন্য তার খুবই গভীর সব কাজে ডুব দিতে হবে এমনটা মোটেও নয়, উচিতও না। তার দরকার ছোট এবং অ-গভীর কাজ। সহজে একসেসেবল কিন্তু ফালতু কাজ নয়। উনাকে যদি যদি আমি প্রথম দিনই বলি— টলস্তয়ের ওয়ার অ্যান্ড পিস পড়েন, আমি নিশ্চিত উনি বইটা নিয়ে আমাকে মারতে আসবেন।
প্রথম প্রথম তিনি একই রাতে ৩ ক্যাটাগরির জিনিস না পড়লেও চলবে। তিনি প্রথমে পড়তে পারেন সহজ ও ছোট ছোট ছড়া কিংবা কবিতা। এর জন্য তিনি নানান টপিকের মিক্সড একটা সমগ্র বা সংকলন নিতে পারেন যেখানে নানান টপিক এবং নানান ভালো লেখকের কবিতা আছে। একই ভাবে তিনি শুরু করতে পারেন সহজ ও ছোট গল্প কিংবা প্রবন্ধের বই। প্রবন্ধ বা নিবন্ধ পাঠের ক্ষেত্রে ইন্ট্রোডাক্টরি টাইপ লেখা দ্বারা শুরু করা যেতে পারে। সহজ, ছোট এবং নানান টপিকের মিক্সড – এই ৩টা ক্রাইটেরিয়া ভাবা যায় নতুন পাঠকের জন্য।
এরপর তিনি দুটো ক্যাটাগরির জিনিস পড়বেন এক রাতে। যেমন: ১টা কবিতা এবং ১টা ছোট গল্প। এভাবে কিছুদিন পর পড়ার পরিধি এবং সময় বাড়িয়ে একসাথে ৩ ক্যাটাগরির অর্থাৎ প্রবেশ করবে The ‘Bradbury Trio’ তে। প্রথম প্রথম কোনো একদিন কবিতা, অন্যদিন ছোটগল্প আর অন্য একদিন প্রবন্ধ– এভাবেও পড়তে পারেন। এভাবে প্রায় ১ মাসের মধ্যেই তিনি এই অভ্যাস গড়াতে তুলতে পারবেন। তখন ১ রাতে তিনি পড়বেন ১টা কবিতা, ১টা ছোট গল্প এবং ১টা প্রবন্ধ কিংবা নিবন্ধ। এরপর আপনার যখন পড়ার অভ্যাসটা হয়ে যাবে তখন কিন্তু এটা যে খুব বেশি সময় নেবে তাও না। প্রথম প্রথম একটু টাইম লাগাটা স্বাভাবিক। জিমে গেলে কিন্তু কেউ প্রথম দিন অতিরিক্ত ভরের জিনিস আলগাতে পারে না। ক্রমাগত চর্চার পর একদিন ঠিকই আরামসে তুলতে পারে। এখানেও একই ব্যপার।
পাঠকের ক্ষেত্রে এটায় দুটো লাভ: ১. কনটেন্ট এর ভ্যারাইটি ২. একই টপিকের মধ্যে নানান থিম। সুন্দর একটা এক্সপ্লোরেশন। আর এভাবে তিনি পড়ার অভ্যাসের পাশাপাশি সুন্দর একটা টেস্ট এবং তিনি আসলে কোন ধরনের টপিকে বেশি গভীরে যেতে চান সেটাও আবিষ্কার করে ফেলবেন এক পর্যায়ে। পড়ার আকার এবং গভীরতাও ক্রমশ বৃদ্ধি পাবে এই অভ্যাস গড়ার সময়। সে সাথে বৃদ্ধি পাবে চিন্তা করার পরিধি।
এখানে ছোট করে আরেকটা বিষয় বলে রাখা যায়। ব্র্যাডবেরি'র কথা শুনে হয়তো আপনি ভাবতে পারেন ক্লাসিক দিয়েই শুরু করবেন কি-না। এক্ষেত্রে আমি বলবো এটা না করলেও চলবে। সমসাময়িক অনেক ভালো লেখকদের লেখা দিয়েও আপনি শুরু করতে পারেন। এক্ষেত্রে একটু বেশি সিলেকটিভ হতে হবে। এটায় আবার ছোটখাটো লাভ আছে। যেমন: ভাষা। সমসাময়িক লেখকদের ভাষা আপনার কাছে বোধগম্য হবে বেশি। আবার আরেকটা লাভ হলো কনটেক্সট। ক্লাসিকস যদিও বা টাইমলেস কিন্তু কনটেক্সটকে আসলে বাদ দেয়া যায় না পুরোপুরি। এদিক থেকে সমসাময়িক লেখায় এই ঝামেলাটা একটু কম৷ কিন্তু আগে পরে আপনাকে ক্লাসিকসের কাছে যেতে হবে কারণ এরা ক্লাসিক। তবে পাঠের অভ্যাস গড়ার জন্য সমসাময়িক লেখা বেটার চয়েস বলে আমি মনে করি। মজার বিষয় হলো আপনি যদি সমসাময়িক ভালো লেখার ব্যাক ট্রেসিং করেন, তাহলে কোনো না কোনো একটা ক্লাসিক আপনার চোখে পড়ার সম্ভাবনা কম নয়। এটা ফ্যাক্ট এমন না, আমি এমন অনেক রেফারেন্স পেয়েছি তাই বলা।
এখন আমি উনার এই Trio-কে একটু চেঞ্জ করবো। তবে এটায় পাঠের চেয়ে লার্নিং ও চিন্তার প্রাধান্য পাবে। কবিতায় আমি হাত দেবো না। পড়ার জাগায় শুধু আবৃত্তি শোনা বাদে এর বিকল্প নেই। কবিতা আলাদা একটা জিনিস। এটা না ফিকশন না নন-ফিকশন কিংবা কখনো দুটোই আলাদা বা একত্রে। কবিতা হলো কবিতা। এটার সমান কিছু ভাবা আমার চিন্তার বাইরে। ছোট গল্পের স্থলে আপনি চাইলে শর্ট ফিল্ম কিংবা এনথোলজি সিরিজ দেখতে পারেন। দেখতে পারেন ভালো ভালো ক্লাসিক কিংবা থট প্রভোকিং সিরিজ বা মুভি। দেখতে পারেন নানান এডাপটেশন। আবার প্রবন্ধের ক্ষেত্রে দেখতে পারেন ডকুমেন্টারি, ভালো ইন্টারভিউ বা পডকাস্ট, বুক ডিসকাশন বা এনালাইসিস, ভিডিয়ো এসেই (essay)। কিংবা লং-ফর্ম কোয়ালিটিফুল কনটেন্ট, শর্ট-ও হতে পারে কিন্তু রিলস না। যেমন: TedEd এর ছোট ভিডিও গুলো। চাইলে আবার শর্ট বা ইন্ট্রোডাক্টরি কোর্সও করতে পারেন। এগুলো দেখার সময় ভাববেন, প্যাসিভ ভাবে কনজিউম করবেন না। ভাবনাগুলো প্রয়োজনে নোট করবেন। খাতায় লিখে বা এঁকে ভাবা সহজ। থিংকিং অন পেপার একটা ভালো অভ্যাস। এর চর্চাও করা উচিত একসাথে।


