নীল ডিগ্র্যাস টাইসনের একটি সমাবর্তন বক্তৃতা
বেশ আগের একটা স্পিচ উনার। আমার পছন্দ হয়েছিলো যখন শুনেছিলাম। এ.আই. কেমন অনুবাদ করতে পারে সেটা টেস্ট করতে গিয়ে এটাকে স্যাম্পল হিসেবে ব্যবহার করে এডিট করে এখানে দিলাম।
❝সবচেয়ে বিস্ময়কর সত্যটি হলো এই জ্ঞান যে— পৃথিবীতে জীবন গঠনকারী পরমাণুগুলো, যেসব পরমাণু দিয়ে মানবদেহ তৈরি, এরা আসলে এসেছে সেইসব নক্ষত্রের অন্তর থেকে যেখানে প্রচণ্ড তাপ ও চাপে হালকা মৌল রূপ নিয়েছিল ভারী মৌলে। ভারী ভরের নক্ষত্রগুলো শেষ বয়সে অস্থির হয়ে ভেঙে পড়ে। বিস্ফোরিত হয়। আর ছড়িয়ে দেয় নিজেদের সমৃদ্ধ উপাদান—কার্বন, নাইট্রোজেন, জীবনের সব মৌলিক উপকরণ গোটা গ্যালাক্সি জুড়ে। এই উপাদানগুলোই গ্যাসের মেঘে মিশে, ঘনীভূত হয়ে জন্ম দেয় পরবর্তী প্রজন্মের সৌরজগতের, গ্রহ-নক্ষত্রের, আর সেই গ্রহগুলোতেই তখন এসে যায় জীবনের উপকরণ। তাই রাতের আকাশের দিকে তাকালে আমি জানি— আমরা কেবল এই মহাবিশ্বের অংশ নই, এই মহাবিশ্ব আমাদের ভেতরেও আছে। অনেকে নিজেদের ছোট ভাবেন কারণ তারা ছোট আর মহাবিশ্ব বিশাল। কিন্তু আমার নিজেকে বড় মনে হয়। কারণ আমার শরীরের পরমাণুগুলো এসেছে সেই নক্ষত্র থেকেই। জীবনে এই সংযোগবোধটাই তো আমরা চাই— যুক্ত থাকার, প্রাসঙ্গিক হওয়ার, চারপাশের ঘটনাপ্রবাহের অংশ হওয়ার বোধ। কেবল বেঁচে থাকার মধ্য দিয়েই আমরা তা লাভ করি।❞
এই ভিডিও বার্তার মধ্য দিয়েই মঞ্চে আহ্বান জানানো হলো ড. নীল ডিগ্র্যাস টাইসনকে।
মূল বক্তৃতা:
ধন্যবাদ। এইমাত্র যা দেখলেন, তাতে নতুন করে যোগ করার মতো কিছু নেই। এই আন্তরিক পরিচিতি আর সুন্দর ভিডিওটির জন্য ধন্যবাদ। ভিডিওটি আসলে টাইম ম্যাগাজিনের একটি প্রশ্নোত্তর পর্বের অংশ। সেখানে পাঠকদের করা দশটি প্রশ্নের জবাব দিয়েছিলাম আমার অফিসে বসে। প্রায় পাঁচ বছর সেটি নিভৃতেই পড়ে ছিল ইন্টারনেটে। মাস কয়েক আগে কেউ একজন তাতে যুক্ত করে দেন মহাজাগতিক দৃশ্যকল্প। তার তাতেই যেনো ভিডিওটি নতুন প্রাণ খুঁজে পায়। এর কারণ দর্শক তখন শুধু আমাকে দেখেন না, দেখেন মহাবিশ্বকে, যা আসলে এই বার্তারই মূল প্রতিপাদ্য। এভাবেই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।
আজ আমার সমাবর্তন-বক্তব্য দেওয়ার কথা। তাই ভাবলাম— যেহেতু আপনারা এখন স্নাতক হতে চলেছেন, তাই এমন কিছু বলা যায় যা জীবনের এই পর্যায়ে এসে এখনও শেখা হয়নি।
পৃথিবীজুড়ে যেভাবে অস্পষ্ট, অগভীর চিন্তাভাবনার প্রকোপ বাড়ছে, তা নিয়ে আমি সত্যিই উদ্বিগ্ন। এর কারণ খুঁজতে গিয়ে আমার বোনের একটি ঘটনার কথা মনে পড়ে। আমি তার চেয়ে চার বছরের বড়। তাই স্কুল-কলেজে সবসময় তার একধাপ আগে থাকতাম। যেমন: আমি যখন হাই স্কুল শেষ করছি সে তখন হাই স্কুলে ঢুকছে; আমি যখন কলেজ শেষ করছি সে তখন কলেজে ঢুকছে। তো একদিন তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, "আজ দুপুরে কোথায় খেতে যেতে চাও?" সে পাল্টা জিজ্ঞেস করল, "আমার সামনে কী কী অপশন আছে?" তখনই আমি প্রথম বুঝে গিয়েছিলাম যে— নিজে থেকে একটা টাটকা ধারণা তৈরি করার সক্ষমতা তার তখনও গড়ে ওঠেনি! এর কারণ সারাজীবন সে কাটিয়েছে মাল্টিপল-চয়েস পরীক্ষা দিয়ে। প্রশ্ন করলেই তার সামনে বাছাই করার মতো অপশন লাগত। পরে আরও অনেকের ওপর এই পর্যবেক্ষণ পরখ করে দেখেছি যে— মানুষ আসলে অপশনই চায়! মৌলিকভাবে চিন্তা করা, এমন একটা ধারণায় পৌঁছানো যা প্রশ্নকর্তা নিজেও ভাবেননি—এটা কঠিন। কারণ আমাদের সমাজ একরকম আচ্ছন্ন "সঠিক উত্তর"-এর ধারণায়। সঠিক হলে সঠিক, ভুল হলে ভুল—এই দ্বিত্বের বাইরে যেন কিছু নেই!
একটা উদাহরণ দিই। ধরুন একটি বানান প্রতিযোগিতায় "cat" শব্দটির বানান করতে বলা হলো। একজন লিখল C-A-T—সঠিক। দ্বিতীয়জন লিখল K-A-T—ভুল। তৃতীয়জন লিখল X-Q-W! এখন একটু লক্ষ্য করুন। এই তৃতীয় উত্তরটিকেও ঠিক দ্বিতীয়টির মতোই সমান ভুল ধরা হয়! অথচ যুক্তি দিয়ে বলা যায় যে, ধ্বনিগত বিচারে K-A-T আসলে C-A-T-এর চেয়েও যথাযথ বানান! অভিধানও ধ্বনিতাত্ত্বিক প্রতিলিপিতে এভাবেই লেখে। আমরা এমন একটা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছি যেখানে একটিমাত্র "উত্তর" আছে, বাকি সবকিছুই সমান অগ্রাহ্য। এমনকি যখন কিছু কিছু ভুল উত্তর আসলে অন্যগুলোর চেয়েও ভালো! ফলে মৌলিক চিন্তা, নতুন কোনো দৃষ্টিভঙ্গি, বা বিদ্যমান ধারণাগুলোর মাঝখানে লুকিয়ে থাকা সম্ভাবনা খুঁজে বের করার মতো মানসিক গঠনই আমাদের মধ্যে গড়ে ওঠে না। আমরা জ্ঞানকে একটা প্রক্রিয়া হিসেবে নয়, একটামাত্র উত্তর হিসেবে মূল্যায়ন করি।
আরেকটা উদাহরণ দেয়া যাক। ধরুন আপনি একজন নিয়োগকর্তা। দুজন প্রার্থী ইন্টারভিউ দিতে এসেছেন। আপনি জিজ্ঞেস করলেন, "এই ভবনের চূড়ার উচ্চতা কত?" প্রথম প্রার্থী বললেন, "আমি আর্কিটেকচার পড়েছি। ক্যাম্পাসের সব ভবনের উচ্চতা মুখস্থ আমার। এই চূড়ার উচ্চতা ১৫৫ ফুট।" উত্তরটা সঠিক আর মুহূর্তেই দেওয়া হলো! দ্বিতীয় প্রার্থীকে একই প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেন, " আমি জানি না তবে এখনই দেখে আসছি।" বাইরে গিয়ে তিনি চূড়ার ছায়ার দৈর্ঘ্য মাপলেন। নিজের ছায়ার দৈর্ঘ্যও মাপলেন। দুটোর অনুপাত কষে হিসাব করে ফেললেন উচ্চতা! তারপর ফিরে এসে বললেন, "প্রায় ১৫০ ফুট।" এখন আপনি কাকে নিয়োগ দেবেন? আমি বেছে নেব দ্বিতীয়জনকেই। যদিও তার সময় লেগেছে বেশি, উত্তরও ততটা নিখুঁত নয়। কিন্তু সে জানে কীভাবে তার মনকে এমন এক উপায়ে ব্যবহার করতে হয় যা আগে ব্যবহৃত হয়নি। আপনারা বুঝতে পারছেন যে, আপনি যখন জানেন 'কীভাবে চিন্তা করতে হয়', তখন এটি আপনাকে তাদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী করে তোলে যারা কেবল জানে 'কী চিন্তা করতে হবে'।
সমাবর্তনের এই মুহূর্তে প্রায়ই একটা কথা শোনা যায়— সেমিস্টার শেষ হতে কত দিন বাকি কিংবা শিক্ষকরাই যেন ছুটির অপেক্ষায় সবচেয়ে বেশি উদ্গ্রীব। স্কুল শেষ হওয়ার, ছুটি শুরু হওয়ার জন্য কত মানুষেরই না তর সয় না। কিন্তু কীসের এত তাড়া? শেখা বন্ধ করার? অথচ জীবনের এই একটামাত্র পর্যায়েই শেখাটাই ছিল আপনার একমাত্র দায়িত্ব। মানুষ আপনার কাছে আর কিছুই প্রত্যাশা করেনি। আজ থেকে আপনারা বৃহত্তর জগতে পা রাখছেন। আমি আশা করি, আপনারা নিজেদের বলবেন না যে শেখা শেষ। কারণ এমনটা ভাবলে আপনি ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়বেন। যারা শিখতে থাকবে, তারা আপনাকে ছাড়িয়ে যাবে।
এই প্রতিষ্ঠান থেকে আপনারা বেরোচ্ছেন ঠিক সময়েই। এর কারণ জ্যোতির্বিজ্ঞানে আমরা এখন কেবল মহাবিশ্ব নয়, বহুবিশ্ব (multiverse) নিয়ে কাজ করছি। হয়তো কয়েক বছর পর "বিশ্ববিদ্যালয়" নামটাও বদলে "বহুবিশ্ববিদ্যালয়" হয়ে যাবে! যাই হোক, আজকের এই সমাবর্তনকে দেখুন শেখার শেষ হিসেবে নয়, শুরু হিসেবে। কেউ যদি আপনাকে বেছে নেওয়ার জন্য অপশন দিতে চায়, বলুন—"অপশন লাগবে না। আমাকে নিজের মতো করে উত্তরটা খুঁজে নিতে দিন।” একসময় বলা হয়েছিল যে, মানুষের মনের কাছে নতুন কোনো ধারণার চেয়ে বড় যন্ত্রণা আর কিছু নেই! কারণ পুরোনো ধারণাই স্বস্তি দেয়। আমি চাই— আপনারা প্রত্যেকে এমন একটা কষ্টকর ও অস্বস্তিকর জীবন বেছে নিন, যে কষ্ট আর অস্বস্তির ভেতর দিয়েই জন্ম নেবে এমন সব আবিষ্কার যা এই পৃথিবীকে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। আর এই পৃথিবীর তা সত্যিই ভীষণ প্রয়োজন।
ধন্যবাদ সবাইকে, সময় ও মনোযোগের জন্য।
====================================
AI দিয়ে অনুবাদ কেমন হয় সেটা দেখার জন্য এক্সপেরিমেন্ট চালাচ্ছিলাম। মোটামুটি এডিট করতে হয়েছে। যা বুঝলাম— AI দিয়ে ছোটখাটো অনুবাদ সহজে সেরে ফেলা যাবে। কিন্তু একটু বড় হলেই কোয়ালিটি একদম ফালতু হয়ে যায়। এটাও যে এডিটের আগে অনেক ভালো ছিলো এমন না। কিছু বিষয় একদম কেটে দিয়েছি বিধায় কিছুটা পাঠের যোগ্য হয়েছে। তবে যত কম খাটুনিতে শেষ করে ফেলা যায় সেই হিসেবে ভালোমতো ঘষামাজা করিনি ইচ্ছে করেই। ফলে জড়তা বেশ বিদ্যমান।
মূল স্পিচটার লিংক: https://youtu.be/EsZYLhYYplU?si=iQ4sjP11yzFNIWAN


