রোজাবেল মা তোকে বলছি (মোর্যাল প্যারেন্টিং বিষয়ক বই)
প্যারেন্টিং নিয়ে পড়া ২য় বই এটা আমার। গল্পের মতো করে লেখা। বাবা-মেয়ের কথোপকথন স্টাইলে। ৩০টার মাঝে ১০ টার মতো চ্যাপ্টার ব্যক্তিগত ভাবে ভালো লেগেছে। বাকি অধ্যায় বা গল্পগুলো মোটামুটি। দুই একটা চ্যাপ্টার নিজের জন্য ভালো রিমাইন্ডার ছিলো। আর ২-১টা খুবই ফেমাস গল্প। যেমন: William H. McRaven এর ফেমাস বই Make Your Bed বইটার মূল উপদেশ নিয়ে একটা চ্যাপ্টার ছিলো।
বইটার স্পেশালিটি হলো কিছু গল্প ডিরেক্ট বাচ্চাদের বলতে ইউজ করা যাবে। আর কিছু 'কাজ' নিজেদের অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে বা করে দেখাতে হবে। কারণ বাচ্চারা দেখে শিখে বেশি। আবার এ বইটা ছোটরা নিজে নিজে পড়লেও শিখবে যেহেতু গল্পের মতো করে লেখা।
বইটার শেষ চ্যাপ্টারের মধ্যে মেয়ে তার বাবাকে নিজের মনের কথা শেয়ার করে। এই চ্যাপ্টারটা ইম্পর্ট্যান্ট কারণ এখানে ক্রিটিক করছে মেয়েটা এবং যেটা এডাল্টদের জন্য ইম্পর্ট্যান্ট। এবং যেহেতু ছেলে-মেয়েরা দেখে শেখে তাই এবং ক্রিটিকগুলো পজিটিভ ভাবে নিয়ে নিজেকে বেটার করতে পারলেও সেটা ইন-ডাইরেক্টলি গুড প্যারেন্টিং এর পার্ট। এন্ডিংটা এমন হওয়ায় ভালো লাগলো।
বইটা পড়তে গিয়ে আবারো রিয়েলাইজ করলাম শিক্ষকদেরও প্যারেন্টিং বিষয়ক বইপড়ার গুরুত্ব আছে। মানে আমিও আসলে এই উদ্দেশ্য থেকেই এখন থেকে ঘাটাঘাটি করছি এ জঁনরার বই। আর বিয়েতে গিফট দেয়ার বিষয় তো আছেই।
বইয়ের মাঝে নোট নেয়ার জন্য আলাদা পেইজ আছে দেখে ভালো লাগলো। কিন্তু বইটার সূচিপত্র নেই। চ্যাপ্টারের নাম নেই। এটা একটু ঝামেলার। কারণ নির্দিষ্ট চ্যাপ্টার খুজে বের করার জন্য প্যারা খেতে হবে। যেহেতু এটার প্রাকটিক্যাল ইউজ আছে সূচীপত্র দরকার ছিলো গল্পের মতো করে লেখা হলেও। সূচীপত্র থাকলে এটাকে আরেকটু পার্সোনালাইজড করে ব্যবহার করা যায়, এটুকুই।
বত্ব, বইটা পড়ার পর মনে হলো আমার একটা বাচ্চাদের নিয়ে সিরিজ টাইপ লেখার ২-৩টা পর্ব লিখেছিলাম ‘একটি দিন ও গুটিকয়েক নাবলাবাণী’ নামে। ওটায় মনে হয় হাত দেয়া দরকার আবার।


